কিডনি সংকটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা!
দেশের কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে! ডাক্তার বললেন, "এখনই কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে দেশ কোমায় চলে যাবে!" তখনই চারটি রাজনৈতিক দল এগিয়ে এলো, তবে প্রত্যেকের বক্তব্য শুনে বোঝা গেল, কিডনি দেওয়া সহজ কাজ নয়!
১. উন্নয়ন সংঘ
তারা বলল, "আমরা ইতোমধ্যে কিডনি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। ফাইভ-জি হাসপাতাল, এক্সপ্রেস কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সেন্টার ও পদ্মা কিডনি রিসার্ভার তৈরি করছি। অপেক্ষা করুন, কিডনি এমনিতেই চলে আসবে!"
২. গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার পরিষদ
তাদের দাবি, "এই কিডনি নষ্ট হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সরকার! আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই হারানো কিডনি উদ্ধার করব। এখন যদি কিডনি দিই, তাহলে প্রমাণ হবে আগের সরকার ব্যর্থ হয়নি, তাই আমরা আপাতত কিডনি না দিয়ে আন্দোলন করব!"
৩. স্ববিরোধী সমঝোতা পার্টি
তারা দ্বিধান্বিত—"আমরা তো সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষেই আছি! একদিকে আমরা কিডনি দিতে চাই, আবার অন্যদিকে কিডনি নেওয়ার পক্ষেও আছি। তবে জনগণের দাবি অনুযায়ী, প্রয়োজনে একটা কিডনি ধার নিয়ে দিতেও পারি!"
৪. ধর্মীয় নীতিবাদী পরিষদ
তাদের বক্তব্য, "কিডনি লাগবে? আগে শরীয়াহভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতি চালু হোক, তারপর কিডনি কোথা থেকে আসবে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন! আমাদের প্রার্থনায় কিডনি নিজেই ঠিক হয়ে যাবে!"
এদিকে, দেশের কিডনি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলছে, "এত বক্তৃতার মধ্যে আসল কিডনি কোথায়?"
তখন সব দল একসাথে বলে উঠল, "আগামী নির্বাচনে আমাদের ভোট দিন, তারপর কিডনির সমাধান হয়ে যাবে!"
— তাহলে কি দেশ বেঁচে যাবে? নাকি কিডনি প্রতিস্থাপন শুধু প্রতিশ্রুতিতেই থেকে যাবে?
রাজনীতি যখন প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পরিবর্তে দোষারোপের খেলায় মেতে ওঠে, তখন প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না। জনগণের কল্যাণ তখনই নিশ্চিত হয়, যখন নেতা-কর্মীরা বাস্তবিকভাবে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে, শুধুমাত্র আশ্বাস বা ভোটের জন্য নয়।
No comments:
Post a Comment