Tuesday, February 25, 2025

দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ও নীরবতার দায়: বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা

 দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ও নীরবতার দায়: বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা


বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, অনেকেই বাস্তবতা উপলব্ধি করলেও সচেতনভাবে নিরব থাকে, আবার কেউ কেউ চাইলেও সত্যকে দেখতে পায় না। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নৈতিকতার বিভিন্ন সংকটে আমরা প্রতিনিয়ত এই প্রবণতা লক্ষ্য করি।

রাজনৈতিক বাস্তবতায়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক রাজনৈতিক নেতা ও নীতিনির্ধারক জনস্বার্থের কথা বললেও তাদের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, তারা প্রকৃত সমস্যা দেখেও এড়িয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ জনগণও রাজনৈতিক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা দেখেও চুপ থাকে, যেন কিছুই ঘটেনি। অনেক সময় তারা ভয়, স্বার্থ বা উদাসীনতার কারণে সত্যের মুখোমুখি হতে চায় না।

অর্থনৈতিক সংকটও এদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব, বৈদেশিক ঋণের বোঝা—এসবই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। তবুও, ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যেন এসব সংকট দেখতে পান না, বরং তারা কেবল নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। আবার অনেক সাধারণ মানুষ জানলেও অসহায়বোধ করে, পরিবর্তনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিক থেকেও একই চিত্র দেখা যায়। নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, দুর্নীতি—এসব ইস্যুতে আমরা প্রায়ই দেখি যে, অনেকে সত্য জানলেও মুখ খুলতে ভয় পায়। অন্যদিকে, কিছু মানুষ নির্লিপ্ত থাকে, যেন তারা কিছুই জানে না।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও একই চিত্র। নীতিনির্ধারকরা জানেন যে, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার প্রয়োজন, কিন্তু তবুও তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত। একইভাবে, চিকিৎসা খাতেও মানসম্মত সেবার অভাব থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা ঠিক করার বদলে লাভের দিকে বেশি মনোযোগী।

আমাদের শুধু চোখ খুললেই হবে না, সত্য দেখার জন্য মনও খুলতে হবে, বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। কেবলমাত্র সচেতনতা, নৈতিকতা ও সাহসের সমন্বয়েই আমরা সমাজ ও দেশকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। নাহলে, আমরা শুধু দর্শক হয়ে থাকব, পরিবর্তনের অংশ হতে পারব না।

!!বন্ধ চোখ মানেই ঘুম নয়, আর খোলা চোখ মানেই দেখা নয়!!

কিডনি সংকটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা!

 কিডনি সংকটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা!


দেশের কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে! ডাক্তার বললেন, "এখনই কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে দেশ কোমায় চলে যাবে!" তখনই চারটি রাজনৈতিক দল এগিয়ে এলো, তবে প্রত্যেকের বক্তব্য শুনে বোঝা গেল, কিডনি দেওয়া সহজ কাজ নয়!


১. উন্নয়ন সংঘ


তারা বলল, "আমরা ইতোমধ্যে কিডনি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। ফাইভ-জি হাসপাতাল, এক্সপ্রেস কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সেন্টার ও পদ্মা কিডনি রিসার্ভার তৈরি করছি। অপেক্ষা করুন, কিডনি এমনিতেই চলে আসবে!"


২. গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার পরিষদ 


তাদের দাবি, "এই কিডনি নষ্ট হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সরকার! আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই হারানো কিডনি উদ্ধার করব। এখন যদি কিডনি দিই, তাহলে প্রমাণ হবে আগের সরকার ব্যর্থ হয়নি, তাই আমরা আপাতত কিডনি না দিয়ে আন্দোলন করব!"


৩. স্ববিরোধী সমঝোতা পার্টি 


তারা দ্বিধান্বিত—"আমরা তো সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষেই আছি! একদিকে আমরা কিডনি দিতে চাই, আবার অন্যদিকে কিডনি নেওয়ার পক্ষেও আছি। তবে জনগণের দাবি অনুযায়ী, প্রয়োজনে একটা কিডনি ধার নিয়ে দিতেও পারি!"


৪. ধর্মীয় নীতিবাদী পরিষদ 


তাদের বক্তব্য, "কিডনি লাগবে? আগে শরীয়াহভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতি চালু হোক, তারপর কিডনি কোথা থেকে আসবে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন! আমাদের প্রার্থনায় কিডনি নিজেই ঠিক হয়ে যাবে!"


এদিকে, দেশের কিডনি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলছে, "এত বক্তৃতার মধ্যে আসল কিডনি কোথায়?"


তখন সব দল একসাথে বলে উঠল, "আগামী নির্বাচনে আমাদের ভোট দিন, তারপর কিডনির সমাধান হয়ে যাবে!"


— তাহলে কি দেশ বেঁচে যাবে? নাকি কিডনি প্রতিস্থাপন শুধু প্রতিশ্রুতিতেই থেকে যাবে?


রাজনীতি যখন প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পরিবর্তে দোষারোপের খেলায় মেতে ওঠে, তখন প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না। জনগণের কল্যাণ তখনই নিশ্চিত হয়, যখন নেতা-কর্মীরা বাস্তবিকভাবে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে, শুধুমাত্র আশ্বাস বা ভোটের জন্য নয়।

দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ও নীরবতার দায়: বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা

 দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ও নীরবতার দায়: বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, অনেকেই বাস্তবতা উ...

Popular Post